বাংলা লার্নিং কন্টেন্টের অর্থনীতি

বাংলায় শিক্ষণীয় কন্টেন্ট (প্রযুক্তিকেন্দ্রিক) কেন বিনামূল্যে / ফ্রি-তে বিতরণ করা অপেক্ষাকৃত কঠিন? ইংরেজি ভাষার ভালো ফ্রি কন্টেন্ট যেখানে অহরহ পাওয়া যায়, সেখানে আমাদের সমস্যাটা কোথায়?

কেন তৈরি করি?

মানবতার সেবায় খুব মানুষ কন্টেন্ট তৈরি করেন। কেউ তৈরি করেন কারণ তাদের ভালোলাগার বিষয় হল মানুষকে শেখানো, কেউ করেন পোর্টফোলিও তৈরির জন্য, কেউবা করেন অন্য কোন প্রোডাক্ট প্লেসমেন্টের জন্য, কেউ করেন মনেটাইজেশনের জন্য।

আপসেলিং

ধরুন egghead.io এর কথা। জাভাস্ক্রিপ্টের অসাধারণ সব কন্টেন্ট বিনামূল্যে পাওয়া যায় এখানে। কিন্তু, সব ফ্রি কন্টেন্ট বিগিনার লেভেলের। ইন্টারমিডিয়েট বা অ্যাডভান্সড লেভেলের সব কোর্স কিন্তু পেইড প্ল্যানের অধীনে। আপনাকে এগুলো পেতে হলে টাকা খরচ করতেই হবে। এক্ষেত্রে ফ্রি দেওয়ার অর্থ হল আপসেল করা বা পেইড মেম্বার হতে উদ্বুদ্ধ করা

মনেটাইজেশন / বিজ্ঞাপন

ইউটিউবের ইংরেজি কন্টেন্টের একটি বড় অংশের ইনসেন্টিভ হল বিজ্ঞাপনের থেকে আয় করা। ইউটিউবে ভিডিও ভিউ যত বেশি হবে, আয় হবে তত বেশি।

ইংরেজি ভাষা বোঝে পৃথিবীর জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ। ইংরেজি ভাষায় বানালে কন্টেন্ট থেকে আয় অনেক বেড়ে যায়; কারণ পপুলেশন বেশি! কিন্তু বাংলায় প্রযুক্তি ঘরানার কন্টেন্ট দেখার মানুষ খুবই কম। যার ফলে এই পদ্ধতি কোন কাজেরই না। কয়েক হাজারের বেশি মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না, যারা বাংলায় টেকনোলজি কন্টেন্ট দেখবেন।

এজন্য বাংলা ভাষায় যারা ফ্রি কন্টেন্ট বানান, তাদের কোন প্রকার লাভ তো দূরের কথা, প্রোডাকশন কস্ট উঠানোরও উপায় থাকে না। পরিশ্রম, বিদ্যুৎ বিল, যন্ত্রপাতির খরচ – পুরোটাই লস।

পেইড কন্টেন্ট


এক্সপার্ট যে কজন ডেভেলপার আছেন তার সবাই মানুষ, তাদের পরিবার-পরিজন আছে, স্ত্রী-সন্তান আছে, এছাড়া আরও অনেক কাজ থাকে। আপনি কী আশা করেন? তারা দৈনিক ৮/১০ ঘণ্টা অফিসের কাজ করে, পাশাপাশি নতুন নতুন জিনিস শিখে নিজেকে আপডটেড রেখে, অন্যান্য কাজকর্ম করে, পরিবারকে সময় দিয়ে আবার সবার জন্য ফ্রী বাংলা কন্টেন্ট বানাবে? হাস্যকর। শত ব্যস্ততার মাঝে যদি তারা সময় বের করে কিছু কোর্স আয়োজন করে মানুষকে শেখানোর জন্য তখন সেখানে আবার টাকার কথাটা চলে আসে। বিচিত্র আমাদের মানসিকতা।
আর বিদেশীরা ফ্রী দেয় বলছেন?! কয়জন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডেভেলপারের বই ফ্রীতে পেয়েছেন, Udemy তে কয়টা ভাল কোর্স ফ্রীতে করেছেন, সব বাদ দিন, কোন ভার্সিটিতে ফ্রীতে পড়েছেন? তাহলে একজন ডেভেলপার যখন আপনাকে শেখাতে চায় তখন টাকার ব্যাপারে নাক সিঁটকান কেন?

– নিলয় আবেদিন (পাইথন বাংলাদেশ)

স্ক্রিপ্ট রেডি করা, রেকর্ডিং করা, এডিটিং করা – সবচেয়ে বড় কথা স্ক্রিপ্ট রেডী করতে পারার মত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ৮-১০ বছর খরচ করা, প্রত্যেকটির পেছনেই অনেক পরিশ্রম যুক্ত রয়েছে। তাই, প্রফেশনাল কোয়ালিটির কন্টেন্ট তৈরি করতে গেলে খরচ থাকবেই।

সামর্থ্য

সকল মানুষের সামর্থ্য একরকম নয়। পেইড কন্টেন্টে আপত্তি থাকলে একটু সময় খরচ করুন। ইংরেজির উপর দখল আনুন ও ভালো ফ্রি কন্টেন্ট উপভোগ করুন। ইংরেজি ভাষার অডিয়েন্স বেশি, তাই ইকোনমিস অফ স্কেলের হিসেব অনুযায়ী তাতে পরিশ্রমের বিপরীতে লাভ বেশি। ফলস্বরুপ, ফ্রিতে অনেক ভালো কন্টেন্ট পাওয়া যায়।

আমি একটি অনুরোধ রাখব। নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ না করতে চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, আপনার স্কিল, আপনার জানাশোনা ও জ্ঞান পুরোপুরি আপনার প্রচেষ্টার উপর।

শুভকামনায়,
অনিরুদ্ধ অধিকারী

One thought on “বাংলা লার্নিং কন্টেন্টের অর্থনীতি”

  1. বিগিনার লেভেলের স্কিল এর জন্য হয়তো অনেক ফ্রি কোর্স পাওয়া সম্ভব।তবে সত্যিকারের এক্সপার্ট হতে চাইলে কিছু পয়সা পাতি খরচ করা লাগবেই,এটাই স্বাভাবিক। আর আপনার সাথে মিলিয়েই বলতে চাই, স্কিল বা জ্ঞ্যান নিতান্তই চেষ্টার উপর নির্ভরশীল। ধন্যবাদ সুন্দর করে লেখার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.